টাচ নিউজ ডেস্ক: চলমান অস্থিরতার মধ্যেই গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

এ ছাড়াও কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদ এবং সিপিএম বিধায়ক এমওয়াই তারিগামিকেও রাতে আটক করা হয়েছে বলে খবর। যদিও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

জিনিউজ, ইন্ডিয়া টাইমসসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র দিনভর দফায় দফায় বৈঠক এবং অন্যদিকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির কারণে উৎকণ্ঠার পারদ চড়ছিল কাশ্মীরে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল না, কেন্দ্র ঠিক কী পদক্ষেপ করতে চলেছে। পরে দিন পেরিয়ে এ খবর শোনা গেল।

আর গভীর রাতের এই তৎপরতায় তুঙ্গে জল্পনা। শেষ পর্যন্ত কী হতে চলেছে কাশ্মীরে? অজানা আতঙ্কে প্রহর গুণছে থমথমে কাশ্মীর।

তবে রাজ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের গৃহবন্দী দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। টুইটারকে হাতিয়ার করে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে তারা। দুজনেই টুইট বার্তায় নিজেদের গৃহবন্দী হওয়ার কথা সবাইকে জানিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি পরিষেবা। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। সেইসঙ্গে স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ভূস্বর্গের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সচিবালয়, পুলিশের সদর দপ্তর, বিমানবন্দর, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর-সহ কাশ্মীরের সংবেদনশীল স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।

রাতের শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী। শ্রীনগরে প্রবেশ ও বাহিরের পথে ব্যারিকেড করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর আগে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে প্রশাসনকে বাধার মুখে পড়ে হয়েছিল, সেইসব এলাকার প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। আগাম সতর্কতামূলক এই সমস্ত পয়েন্টে সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। টহল দিচ্ছে বাহিনী।

এদিকে আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জিনিউজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে