টাচ নিউজ ডেস্কঃ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থার মধ্যেও বিধিনিষেধবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন কানাডার ট্রাকচালকরা। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী অটোয়ায় আবারও জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে কানাডার পুলিশ।

জানা গেছে, টিকাবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। জরুরি অবস্থা জারির পর শুক্রবার কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অভিযান শুরু করেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে অন্যান্য দিনের মতো এদিনও রাজধানী অটোয়ায় জড়ো হন কয়েকশ ট্রাকচালক। আন্দোলনকারীদের দমাতে হাজির হন পুলিশ সদস্যরাও। শুরু হয় সংঘর্ষ।

বিক্ষোভকারীদের পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় পুলিশ। অনেকের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলা হয়। এদিন ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশটিতে চলছে ‌‘ফ্রিডম কনভয়’ নামের এ বিক্ষোভ। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সপ্তাহ ধরে চলা ট্রাকচালকদের টিকাবিরোধী বিক্ষোভ যখন শেষ হতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এ ঘটনা ঘটল।

আগের দিন বৃহস্পতিবারও (১৭ ফেব্রুয়ারি) অটোয়ায় জড়ো হন কয়েকশ ট্রাকচালক। করোনার টিকা ও বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে তুলে ধরেন নিজেদের কঠোর অবস্থান। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ করে, লাগাতার গাড়ির হর্ন বাজিয়ে করেন বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের দমাতে গাড়িবহর নিয়ে হাজির হন পুলিশ সদস্যরাও। চলে ধরপাকড়। এদিনও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা কানাডার নাগরিকদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট ভবনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ও জননিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দ্রুত হটানো উচিত বলে জানান তিনি।

ট্রাক চালকদের করোনাভাইরাসের টিকা বাধ্যতামূলক করায় সরকারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে গত জানুয়ারিতে ‘ফ্রিডম কনভয়’ নামের বিক্ষোভ শুরু করেন ট্রাকচালকরা। রাজধানী অটোয়াসহ বিভিন্ন শহরে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে