ইকবাল আহমেদ লিটন: প্রতিটা মানুষ জন্মগতভাবে অন্যের থেকে মেধা ও মননে, কর্মক্ষমতায়, চতুরতায়, ভিন্ন রুচিবোধ ও চিন্তাশক্তি নিয়ে জন্মায়। জন্মের পরবর্তী পরিবেশের আলোকে সে নিজেকে বিকশিত করে তুলে। আমরা মাঝে মাঝে স্টেশনগুলোতে, বাসটার্মিনাল গুলোতে কিছু কিছু পথশিশুকে সুমিষ্ট সুরে গান করতে শুনি। তাদের গলার স্বর আমাদের অবাক করে তোলে।

একটু লক্ষ্য করলেই আমরা দেখব যে, এরা কিন্তু কারও কাছ থেকে গান শিখেনি, এদের নেই কোনো বাদ্যযন্ত্র, এমনকি হয়তো গান শোনার জন্য ব্যক্তিগত কোনো সংগ্রহও নেই। এরা দোকানের টেলিভিশন থেকে বা অন্য কোনোভাবে গান শুনেই এত সুন্দর গান করতে পারে। আমি সত্যি খুব অবাক হই যে, এরা যদি মনের চাহিদা পূরণের জন্য, নিজের মেধাকে বিকাশ করার ন্যূনতম সুযোগ পেত তাহলে হয়তো এরাই হতো বিশ্বসেরা সঙ্গীত তারকা। আর বাংলাদেশ হতো সেই গৌরবের অধিকারী। কিন্তু এতই দূরভাগা আমরা যে এদের জন্য ন্যূনতম কোনো সুযোগ তো দূরের কথা এদের দু’বেলা খাবার ব্যবস্থা করতে পারি না। এ রকম আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেমন, অনেকে আছে যারা রাজনীতিতে অন্যদের থেকে বেশ প্রতিভা সম্পন্ন কিন্তু তারা পায়নি তার জন্য অনুকূল পরিবেশ। পেলে তারা হয়তো বিশ্বকে নতুনভাবে গড়ার মতো কিছু দিতে পারত আবার এমন কিছু লেখক আছে যাদের লেখাতে আগুনের ফুলকি ঝরে কিন্তু আমরা দিতে পারি না তাদের সে রকম পরিচর্যা। যেটা আমাদের ব্যর্থতা।

উদাহরন স্বরুপ বলা যেতে পারে যেমন একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট সে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জয়গান নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখেন এবং সর্ব সাধারন মানুষ থেকে গন্যমান্য ব্যক্তিগন তার লেখা পড়েন কিন্তু এতে কিছু লোক খুসি না হয়ে বরং বিরোধিতা করেন তাহলে কি মেধার সঠিক মূ্ল্যায়ন হলো? উদাহরণস্বরুপ বলা যায় যে, তারশঙ্কর বন্দ‌্যোপাধ্যায় লেখালেখিকে জীবিকা হিসেবে নিলেও তার জীবন কিন্তু পুষ্পশয্যার মত ছিল না। কখনও খেতে পেয়েছেন, অনেক সময় খেতে পাননি। পারিবারিক সমস্যার কারনে একবার তার অনেক টাকার দরকার হয়েছিল। টাকার জন্যই গল্প পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী নামে একটি পত্রিকাতে। সাত আট মাস পরও কোনো খবর নেই। নিজেই একদিন পত্রিকা অফিসে গেলেন। গল্পটি পেলেন কিনা এই বিষয়ে সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সম্পাদককে জানালেন গল্পটি পড়ে দেখার সময় হয়নি তার। বাড়ী ফিরে এসে তারাশঙ্কর ঐ গল্পটিই কল্লোল পত্রিকায় পাঠালেন। গল্পটি পত্রিকার সম্পাদক পেয়ে খুশিতে ছাপালেন। শুধু তাই নয় সম্পাদক (পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়) তারাশঙ্করকে পত্র লিখলেন এতো দিন চুপ করিয়া ছিলেন কেনো? সে সঙ্গে নিয়মিত লেখার অনুরোধ করেন।

আজকালের নামীদামি পত্রিকার কিছু বিভাগীয় সম্পাদক আছেন, যারা পত্রিকার মালিকের কেনা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয়ে সখার সঙ্গে বসে রসের আলাপ করে আর ফেসবুকে বসে লেখকদের সময় দেন। এরই মধ্যে কোনো লেখক বিশেষ প্রয়োজন কিংবা লেখা পাঠিয়ে খবর জানতে চাইলে পড়ে দেখবো/জানাবো কিংবা এক সময় ছাপাবো বলে সব শেষ করে দেন। একবারও ভাবেন না একজন লেখক কিংবা কবি কতটা কষ্ট করে কিংবা কতটা সময় ধরে একটি লেখা তৈরি করে এবং পরবর্তিতে পত্রিকায় পাঠান। তারাশঙ্কর লেখালেখিকে ভালোবাসতেন বলেই অন্য পেশায় যাননি। সূদূর মফস্বল থেকে কলকাতার বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠাতেন সে লেখা ছাপাও হতো। মফস্বলে থেকেও ভালো লেখক হওয়া যায় এবং জনপ্রিয় গল্প পত্রিকায় ছাপানো যায় এটি তারাশঙ্করই আমাদের চিনিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে তিনি আজ বড় রকমের লেখক হয়েছেন এই তারাশঙ্করের জীবনীকে আজকের লেখক সাহিত্যিকরা এমনকি মালিকের টাকা মারা দেশের সনামধন্য বিভাগীয় সম্পাদকরা কিভাবে দেখেন তাই আলোচ্য বিষয়। একজন লেখক অন্যান্য দশজন মানুষের মত নন। তারা নিজের মগজ খাটিয়ে লিখেন সে লেখা কতনা কষ্ট করে পত্রিকা বরাবর পাঠান অথচ এখনও অনেক আনাড়ি বিভাগীয় সম্পাদক আছেন সে লেখা পড়েনতো নাই বরং ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে রাখেন (প্রমাণিত)।

প্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে ইমেইল ভিত্তিক লেখা অনেক সম্পাদক চাপ (ক্লিক) দিয়ে দেখেননি। লেখালেখিকে কিভাবে দেখেন তা বুঝাতে তারাশঙ্কর লেখেন, ‘চাষী চাষ করে যে জন্য, শ্রমিক মাটি কাটে যে জন্য, সেই জন্য আমি লিখি; লেখা থেকে আমার অন্ন বস্ত্র জোটে। লেখা আমার জীবিকা, আর লিখে আমি আনন্দ পাই।’ লেখালেখি করে কেউ কোটিপতি বনে যাননি। হয়তো কোনো কারনে কোটিপতি এক সময় একটু আধটু লিখে থাকেন। তারাশঙ্করের ‘আমার সাহিত্য জীবন’ বইটি একজন লেখকের সংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠা লাভের ইতিহাস। কোনো কিছু গোপন করেননি তিনি। সাহিত্য জীবনের প্রথম পর্বকে ভাগ্যের অবহেলা ও অবজ্ঞার যুগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ সময় যে পাঠকের প্রশংসা একেবারেই পাননি এমনও নয়। তবে একজন নবীন লেখকের কতটা যুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হয় তা তুলে ধরেছেন। বর্তমান সময়ে লেখালেখিতে যুদ্ধের পরিধি বেশ বেড়েছে।

একদিকে অনেক কিছুই লেখা যায় না। গোপন রাখতে হয়। দ্বিতীয় বিষয় যেটি আগেও ছিলো, একজন লেখক তার মনের মাধুরি মিশিয়ে যতই লেখেন না কেন তা অবশ্যই বিভাগীয় তথা সাহিত্য সম্পাদকের পছন্দ হতে হবে। তারপর নিজের খুশি মত তিনি তা ছাপবেন। একজন মা দশ মাস দশ দিন কষ্ট করে একদিন হয়তো সন্তানের মুখ দেখতে পান। সন্তানটি কে জন্ম দিল? ক’জনের সঙ্গে থেকে হতভাগা মা তার সন্তানকে পেলো এটি কোন মূখ্য বিষয় নয় কিন্তু মা যখন তার সন্তানকে সুস্থ্য পান সেটিই তার কাছে বড় আনন্দের। সন্তান কার পছন্দ হলো কার হলো না এ নিয়ে মা কখনই ভাবেন না। আবার তার সন্তান দেখতে যেমনই হোক, বোবা, কানা, অন্ধই হোক, কোটি টাকা দিয়েও তার সন্তানকে কেউ কিনতে পারেন না বা কেউ তার সন্তানকে কিছু বলতেই পারেন না। সন্তানতো তার কলিজার টুকরা!

একটি কবিতা কিংবা একটি গল্পও তাই। একজন লেখক কত কষ্ট করে লিখেন কিন্তু এই লেখা যতই খারাপ আর ভালোই হোক, একজন বিভাগীয় সম্পাদক যখন লেখাটি ময়লার ঝুঁড়ি কিংবা মেইলে লুপে রাখেন তখন লেখকই বুঝেন তার বেদনা কেমন? কারো সন্তানকে মেরে ফেলা কারও অধিকার নয়, হতেও পারে না। কিন্তু আজকালকের আনাড়ি কেউ পত্রিকা অফিসে ডুকেই নিজকে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় ক্ষমতাসিন মনে করেন। মাঝে মাঝে বুলিও আওড়ান, আপনি যতই ভালো লেখেন না কেন আমার পছন্দ না হলে ছাপবো না। ধর্ষিত (কথার কথা) মায়ের সন্তানকে এভাবেই কুঁড়ি অবস্থায় ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে দেন অনেকে। আবার অনেকেই আছেন আশার কথা লিখেন, ছাপাবো, আছে, পড়েছি, আপনার লেখা ভালো হয়েছে। একজন গণমাধ্যম কর্মীই পারেন একজন ভালো লেখক- কবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। কুঁড়িতে বিনষ্ট করার দাবিদারও একজন গণমাধ্যম তথা বিভাগীয় সম্পাদক। কেউ কেউ আছেন প্রিয় ও কাছের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে তার লেখা ছাপান। আজকাল লেখকরা যখন প্রকাশ হয়ে যান তখন কিছু বিভাগীয় সম্পাদকও বিক্রি হন। করতে না পারার লজ্জায় প্রতিবন্ধী সন্তানকে কেউ কেউ নেতা বানান এটি কর্তব্যরত সম্পাদকরাই পারেন। যেমনটি পারেন একজন নির্মাতা কাজের বুয়াকে জনপ্রিয় নায়িকা বানাতে। কবি জসিমউদদীন লিখেছেন, আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যে বা আমি বাধি তার ঘর। আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করিয়াছে পর…

সেই মানুষই সুন্দর, যার কাজ ভালো। ভালো কাজ, ভালো মানুষ একদিন প্রচার হবেনই প্রকাশও হবে তার যাবতীয় কাজকর্ম। উপকৃত হবে মানুষ। এটাই নিয়ম এটিই প্রকৃতি। প্রতিটি মানুষ ভালো থাক নিজের মত করে। যাইহোক, একটা মেধা ঝরেপড়া একটা সমাজের বা দেশের জন্য কতটা দুঃখজনক তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। কারণ কেউ জানতো না যে, করম চাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী) তার মতো একজন সাধারণ মানুষ গোটা ভারতের স্বাধীনতার জন্য অবদান রাখবেন।

কে জানতো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া (বঙ্গবন্ধু) সেই ছেলেটাই হবে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার মধ্যমণি। কে জানতো বিকলাঙ্গ হয়েও স্টিফেন হকিং বর্তমান শতাব্দির শ্রেষ্ঠ পদার্থ বিজ্ঞানী হবে? আব্রহাম লিংকনের মতো একজন মানুষ হবে আমেরিকার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ শাসক কে জানতো? বারাক ওবামার মতো কৃষ্ণাঙ্গ, গরিব পরিবারের ছেলে আমেরিকার নক্ষত্রতুল্য প্রেসিডেন্ট হবে এটা কেউ জানতো না। হিটলারের মতো রাস্তার ছেলে হয়ে উঠবে বিশ্বসেরা ইতিহাস রচনার উপাদান সম খলনায়ক এটা কে জানতো? কে জানতো নরেন্দ্র মোদির মতো একজন চা বিক্রেতার ছেলে হবে ভারতের মতো এতবড় দেশের প্রধানমন্ত্রী? নেলসন মেন্ডেলার মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে উঠবে বর্ণবৈষম্যহীন সমাজের প্রতিষ্ঠাতা- কে জানতো? এ রকম শত উদাহরণ রয়েছে ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্রসমব্যক্তিত্বের। তাদের উঠে আসার গল্প আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রতিভার বিকাশ কতটা জরুরি একটা সমাজ, দেশ, জাতির অমূল পরিবর্তনের জন্য। মাতৃগর্ভের শিশু হিটলারও হতে পারে আবার বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীও হতে পারে। কোনো মানুষ মায়ের পেট থেকে নিউটন হয়ে জন্মায় না তাকে নিউটন হওয়ার সুযোগ করে দিতে হয়। তার জন্য প্রয়োজন সুযোগ, প্রয়োজন সুন্দর অনুকূল পরিবেশ। মাদার তেরেসা একবারই পৃথিবীতে আসবে এমন নয়। প্রত্যেক মেয়েই মাদার তেরেসার মতো হতে পারে, যে কোনো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সব ধরনের জনবল, যারা একটা রাষ্ট্রকে সবদিক থেকে পরিপূর্ণ করে তুলবে।

প্রয়োজন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, দার্শনিক মোট কথা মানব সভ্যতার উন্নয়নের জন্য যে ধরনের মহাপুরুষ দরকার। স্রষ্টা তার অপার করুণায় আমাদের মাঝে সব ধরনের প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ দিয়েছেন। কথায় বলে ‘ইচ্ছা থাকলে সমুদ্রের তলার স্বর্ণ নাকে উঠে আর ইচ্ছ না থাকলে নাকের স্বর্ণ সমুদ্র তলে ঢুবে’। আমাদের যদি ভাবনা হয় বিশ্বকে নিজের দেশ-জাতি-সমাজকে আদর্শরূপে গড়ে তুলবো তাহলে স্রষ্টাপ্রদত্ত এই সকল মানুষের সেবা করতে হবে। তার মেধা ও মনন বিকাশের জন্য সুযোগ করে দিতে হবে। ‘যতনে বাড়ে রতন’ কথাটা সামান্য একটা প্রবাদ হলেও এর অর্থমূল্য অনেক।

জয়নুল আবেদিন বা কামরুল হাসানের বা এসএম সুলতানদের মতো অনেক চিত্রকর লুকিয়ে আছে বাংলার ঘরে। সামান্য সুযোগ হয়তো তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। বাংলাদেশের মাটিতে আইনস্টাইন জন্ম নেবে না বা নিউটন হবে না কোনো বিধান নেই। মায়ের কোলের ছোট সেই খোকাই যে একদিন বিশ্বরত্ন হবে এটা তার মা নিজেও জানত না। মেধা এমন সম্পদ যার কোনো মরণ নেই। এটি এমন অস্ত্র যার আঘাত প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই। যার দ্বারা বিশ্বে রাজত্ব করা যায়। মেধা কোনো দল-মতের সম্পত্তি নয় এটা গোটা দেশ-জাতি ও বিশ্বের সম্পদ। বিকাশ করার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। করতে হবে তার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি। চীন, উত্তর কোরিয়াসহ বিশ্বের জনবহুল দেশগুলো জনসংখ্যার ভারে তলিয়েও যায়নি বা তারা পিছিয়েও পড়েনি। বরং তারাই আজ বিশ্বে রাজত্ব করছে।জনসংখ্যাকে তারা সমস্যা নয় সম্পদ মনে করে কাজে লাগিয়েছে। আমাদের দেশে রয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো উন্নয়নের সুযোগ। কারণ আমাদের সোনার খনি নেই তবে আমাদের দেশে সোনা ফলে।এদেশের মাটি বড় খাঁটি, সুবিশাল মানবসম্পদ সম্পন্ন এমন দেশ বিশ্বে বিরল। দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের দৃষ্টান্তস্বরূপ বাংলাদেশ ঈর্ষার রূপ নিয়েছে।

মোট কথা, প্রত্যেকেরই বড় কিছু হওয়া চিন্তা রয়েছে কিন্তু আমরা তাদের প্রতিভার সন্ধান করে তার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে রাজি না এবং কি করে সেই মানুষের প্রতিভা বঙ্গপসাগর ও আটলান্টিক সাগরে ভাসিয়ে দিবে সেই চিন্তাতে মশগুল এবং আমাদের পরিবার -শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ-দেশ কেউই জানতে চায় না। প্রত্যেক মানুষের ভাবনাটা কী? তার ইচ্ছা কী? সুযোগ করে দিতে পারি না তার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, কোনো মানুষই খারাপ মানুষ হতে চায় না বা কুখ্যাত কাউকে তার আদর্শ হিসেবে নেয় না। তাহলে তার ইচ্ছার তার প্রতিভার বিকাশের সুযোগ করে দিতে বাধা কী? প্রত্যেক মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে আমাদের দেশের অমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে উঠবে নিশ্চিত।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।সদস্য সচিব, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে