কবিতা-মন খোঁচা
তাহ্ মিনা নিশা

ভালোবাসার মানুষগুলো
কেমন যেন বদলে যায়
হঠাৎই একদিন মোহ ভেঙ্গে
স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়
হয়তো বিষয়টা খুবই ঠুনকো
কিন্তু মনের কোণে
বিঁধে থাকা কাটার মত খচখচ করে
তখন নিজেকে বারবার প্রশ্ন করা…
আমি কী এই মানুষটাকেই ভালোবেসেছিলাম?

হয়তো সে বিষয়টা আমলেই নেয়না
সে স্বাভাবিক তার কাজে…
আচরণে… কথাবার্তায়…
অপর দিকে
যার স্বপ্ন ভাঙ্গলো
হৃদে খোঁচা লাগলো
সেও এক পর্যায়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়
হতে বাধ্য হয়
কিম্বা ভাবে,
প্রথম অপরাধ মাফ…

আস্তে আস্তে কাঁটার খোঁচা
সুঁচের খোঁচার মত লাগে
আরও পরে ছুরির
এভাবে খোঁচা আর খোঁচা থাকেনা
তখন রক্ত ঝরে
ঘা হয়
পেকে পুঁজ পড়ে
মোটকথা ইনফেকশন হয়ে যায়
এ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করেনা
এক সময় মন নামের অঙ্গটিকে
শরীর থেকে বাদ দিতে হয়।

সত্যিই যদি মন একটা অঙ্গ হতো!
অথবা একটা মানুষের
অনেকগুলো মন থাকতো!
তাহলে যেই মনটার ইনফেকশন হলো
তাকে বাদ দিয়ে…
অন্য একটা নতুন মন নিয়ে…
কাজ চালানো যেতো!
এমনও তো হতে পারতো!
বাজারে মন হালি হিসেবে বিক্রয় হতো…
যখন যার প্রয়োজন কিনে আনতো…
সবচেয়ে ভালো হতো…
যদি মন, গাছের ফল হতো!
কিম্বা ট্যাবলেট- ক্যাপসুল!
অথবা সুপারগ্লু দিয়ে…
ভাঙ্গা মন জোড়া যেতো!

তবে অন্তত বিচ্ছেদ হত না
যুবক যুবতী ছ্যাক খাওয়া নেশায় ডুবতো না
শত হাজার সংসার ভাঙ্গতো না
সন্তান তার পিতামাতার সেপারেশন বুঝত না
ডিভোর্স শব্দটির আবিস্কারও তাই হতো না
তালাকনামা বলে কেনো ষ্টাম্প বসানো কাগজ থাকতো না,
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শিশুর দায়িত্ব কার?
— বলে গলাবাজী হতো না
বিদায়ী মেয়ে পিতার বাড়ী ফের আশ্রয় খুঁজতো না
কিম্বা ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত দেহের সংখ্যা যেত কমে।

সবই তো মনের খেলা…
মন ভাঙ্গার খেলা…
প্রথম কাঁটার খোঁচা থেকে যার উৎপত্তি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে