টাচ নিউজ ডেস্ক: সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের হিমছড়ি থেকে দরিয়ানগর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শত শত টন প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য, সাথে ছেড়া নাইলনের জালে আটকা পড়ে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ টি সামুদ্রিক কচ্ছপ মারা পড়েছে।

তবে এত বিপুল পরিমাণ জাল ও বর্জ্য কোথা থেকে আসছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যে কচ্ছপগুলো এখনো বেঁচে আছে সেগুলোকে উদ্ধার করে আবার সমুদ্রে অবমুক্ত করতে কাজ করছে ‘সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ’ কক্সবাজার জেলা কমিটির সদস্যরা।

সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দিকে ভেসে আসতে থাকে প্লাস্টিক বর্জ্য। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীরে ভেসে আসতে থাকে টন টন প্লাস্টিক বর্জ্যসহ ছেঁড়া জাল। এসব জালে পেঁচানো অবস্থায় সামুদ্রিক কচ্ছপও ভেসে আসে সৈকতে। প্রচুর মানুষ এসব বর্জ্যের মধ্যে মূল্যবান বা প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে ভিড় করছে, অনেকে তা সংগ্রহও করছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে দশটির বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপকে আবার উদ্ধার করে সমুদ্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধার কাজে পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার এগিয়ে এলেও সরকারি প্রশাসনের কোন দপ্তর এখনো এগিয়ে আসেনি। সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এত বর্জ্য কোথা থেকে এসেছে তা আমাদের জানা নেই। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা এসব বর্জ্যের সঙ্গে বিশেষ করে জালের সঙ্গে আটকা পড়া কাছিম উদ্ধার করে অবমুক্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ২০০ নটিক্যাল সমুদ্র সীমায় পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। বিদেশি জাহাজ থেকে আমাদের জলসীমায় বর্জ্য ফেলার অভিযোগ থাকলেও সরকার কখনও তাদের শনাক্ত বা শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি। সমুদ্র দূষণ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কনভেনশনের লঙ্ঘন। তাই আমাদের এখন সমুদ্র কমিশন গঠন করে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা উচিৎ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে