নবীজি (সা.) এর হাতে গড়া সোনালি কাফেলা সাহাবায়ে কেরাম। সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তারা ইহকালে অনাগ্রহী ও পরকালে আগ্রহী ছিলেন। আখেরাতের তুলনায় তাদের কাছে দুনিয়ার কোনো মূল্যই ছিল না। তারা দুনিয়ার দায়িত্ব যথাযথ পালন করলেও ছিলেন বস্তুত জাহেদ তথা দুনিয়াবিমুখ। এ গুণটি বিশেষভাবে বিকশিত ও প্রস্ফুটিত হয়েছে আমিরুল মোমেনিন ওমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চরিত্রে।
পরকালে উপকারী নয়, এমন সব বিষয় তিনি পরিত্যাগ করেন। তার কাছে দুনিয়াবিমুখতা মানে এই নয়, স্ত্রী-পুত্র, পরিবার-পরিজন, ধনসম্পদ ইত্যাদি দুনিয়াবি আসবাব-উপকরণ ছেড়ে দেওয়া। ইসলাম এর দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। বরং তার দুনিয়াবিমুখতা ছিল চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও আমলের ক্ষেত্রে। আরাম ও বিলাসিতা ত্যাগের মাধ্যমে। তিনি ছিলেন দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত। আখেরাতের প্রতি উদগ্রীব। তিনি জানতেন দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। তার ঔজ্জ্বল্য ও চাকচিক্যের প্রতি আসক্তি এবং তার প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন তিনি। তার অন্তরে এ বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল, তিনি এ দুনিয়ায় অপরিচিত এক মুসাফির। এ দুনিয়া একদিন শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে তার কোনোই মূল্য নেই। মূল্য শুধু দুনিয়ায় রেখে যাওয়া রবের ইবাদত ও আনুগত্যের। দুনিয়ার জিন্দেগি যৎসামান্য। আখেরাত চিরস্থায়ী। অন্তরে বদ্ধমূল হওয়া এ বাস্তবতার নিরিখে তিনি দুনিয়াবি তুচ্ছ বস্তু থেকে নিজেকে পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন সত্যের ক্ষেত্রে আপসহীন। তোষামোদ ও চাটুকারিতা পছন্দ করতেন না। সত্য গ্রহণে তিনি ছিলেন অটল-অবিচল। এক্ষেত্রে নমনীয় হতেন না, দুর্বলতাও দেখাতেন না। এসব গুণাবলির কারণে শয়তান ক্রোধান্বিত হতো ও তার কাছ থেকে পলায়ন করত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। এ গুণটিই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তোলে। তিনি মানুষকে যথাযোগ্য সম্মান দিতেন। নিজের সঠিক মূল্যায়ন করতেন। নিজ আত্মাকে ভালোভাবেই চিনতেন। তিনি আল্লাহকে খুব বেশি ভয় করতেন। তার কথা ও কাজে আল্লাহর ভয় ফুটে উঠত।

একনজরে ওমর বিন খাত্তাব (রা.) এর কিছু পরিচয়
তিনি হলেন ওমর বিন খাত্তাব বিন নুফাইল আল-কুরাশি আল-আদাওয়ি। উপনাম আবু-হাফস। উপাধি ফারুক। কোরআন শ্রবণ ও তার দ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়ার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম কবুল করাটা ছিল মুসলমানদের জন্য গৌরবের। তিনি হলেন হিজরি সনের প্রবর্তক। সর্বপ্রথম এর দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করেন তিনিই। তার শাসনামলেই ইসলামি সালতানাতের পরিধি বিস্তৃত হয়। ফলে ইরাক, মিসর, শাম, লিবিয়া, বাইতুল মাকদিস ইত্যাদি ইসলামি সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।

যিাইনুল আবেদীন ইবরাহীম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে