ইকবাল আহমেদ লিটন : ১৯৬৬ সালের এই দিনে বাঙালি স্বাধিকার ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী হরতাল পালন করেছিল। পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে প্রাণ দেন তেজগাঁওয়ের মনু মিয়া, আবুল হোসেন ও আদমজীর মুজিবুল্লাহসহ ১২ জন শ্রমিক। প্রায় ৮০০ রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেদিনের শহীদদের রক্তের পথ বেয়ে শুরু হয়েছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন। এই আন্দোলনের সূত্র ধরে আসে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা, ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-এর সাধারণ নির্বাচন, ‘৭১-এর মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন, ‘৭১-এর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। সেই সঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। তাই বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই রক্তঝরা দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৬ সালে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে বাংলার প্রাণপ্রিয় নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

ছয় দফার দাবির মূল লক্ষ্য পাকিস্তান হবে একটি যৌথরাষ্ট্র এবং এই কর্মসূচির ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ছয় দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে ১১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে বাঙালির প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু জনগণকে ছয় দফার ভিত্তিতে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মনে রাখতে হবে তার ওই আহ্বানের সূত্র ধরে শুরু হয়েছিল ছয় দফা কর্মসূচির যাত্রা।

এদিকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ছয় দফা কর্মসূচিকে পাকিস্তানের ঐক্যের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এই ছয় দফা বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৬৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ছয় দফা দলীয় কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ছয় দফা প্রচার ও প্রকাশের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট উপকমিটি গঠন করা হয় এবং উক্ত উপকমিটির নামে পুস্তিকাটি মুদ্রিত হয়। ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিল অধিবেশনে ছয় দফা দাবি সংবলিত মুদ্রিত পুস্তিকাটি বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় পরবর্তীতে ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়। ছয় দফা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘সাঁকো দিলাম, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য’ বস্তুত ছয় দফা ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা ঘোষণার মাধ্যমে কৃত্রিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি তার মুক্তির ঠিকানা খুঁজে পাই। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা হয়ে ওঠে ম্যাগনাকার্টা, আংশিক নয়, পূর্ণ স্বাধীনতাই ছিল যার অনিবার্য পরিণতি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করলে মুসলিম লীগ সরকার ৬ দফাকে রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন বলে প্রচার করতে থাকে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগসহ সভা-সমাবেশ করতে থাকেন। এ কারণে বঙ্গবন্ধুকে অন্তত ১২ বার গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। যতবার তিনি গ্রেফতার হন ততবারই জামিনে বেরিয়ে আসেন কিন্তু ১৯৬৬ সালের ৮ মে গ্রেফতার হলে জামিন পাননি। এর ফলে ছয় দফার দাবির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি যুক্ত হয়ে যায়। ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলকে (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হল) আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ছয় দফার পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পুরানো পল্টন অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি গোয়েন্দা নজরদারিতে চলে যায়। এরপর দেশরক্ষা আইনের আওতায় চলতে থাকে আওয়ামী লীগের ওপর অব্যাহত গ্রেফতার-নির্যাতন।

সামরিক সরকারের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আহ্বানে ১৩ মে সমগ্র প্রদেশে ‘প্রতিবাদ দিবস’ পালিত হয়। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দী। সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেফতার করা হলে সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান চৌধুরী অস্থায়ীভাবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নেতাদের গ্রেফতার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২০ মে আওয়ামী লীগের এক সভায় ৭ জুন হরতাল আহ্বান করা হয়। ৭ জুনের হরতালে সারা বাংলা যেন অগ্নিগর্ভ। বিক্ষুব্ধ বাঙালি সেদিন স্বাধিকার ও বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাস্তায় নামে। টানটান উত্তেজনা ছাত্র-জনতার ইস্পাতদৃঢ় অবস্থান।

তেজগাঁও এলাকায় রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালে ট্রেন লাইনচ্যুত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ, আদমজী, সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরা ও টঙ্গী ছিল আন্দোলনমুখর।

যাইহোক, হিন্দু-মুসলমান আলাদা দুইটা জাতি এটাই ছিল জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা। কিন্তু গর্দভ জিন্নাহ এটা বুঝতে পারে নাই জাতীয়তা ধর্মের ভিত্তিতে বানানো যায় না। জাতীয়তা নির্ধারণ হয় ভাষা সংস্কৃতি দ্বারা। ধর্ম দিয়া যদি জাতীয়তা নির্ধারণ হইত তাহলে আরবরা একটা রাষ্ট্র হিসেবেই সবাই মিলেমিশে থাকত। তারা আলাদা আলাদা ১৮/১৯ টা স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হইত না। কেউ সৌদি, কেউ কুয়েতি, কেউ লেবানিজ, কেউ ফিলিস্তিনি হইত না। এটা জিন্নাহ বুঝতে পারছে ৪৭ এর দেশভাগের পর। পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেখা গেলো জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব আর রাষ্ট্রের কাঠামো নির্মাণ করতে কাজে দিচ্ছে না। জাতি গড়া যে কঠিন কাজ জিন্নাহ সেটা ততদিনে বুঝে গেছে। নেশন-স্টেট বা জাতি-রাষ্ট্র, না স্টেট-নেশন বা রাষ্ট্র-জাতির গ্যাড়াকলে পইরা জিন্নাহর মাথা গেছে খারাপ হইয়া। আসলে জিন্নাহ ফাও ফাও রাষ্ট্র পাইয়া গেছে কিন্তু জাতি গঠন করতে পারে নাই। আগে জাতি গঠন করতে হয় তারপর রাষ্ট্র। কিন্তু পাকিস্তান জাতি-রাষ্ট্র হয় নাই, হইছে রাষ্ট্র-জাতি। কেউ কয় আমি বেলুচ, কেউ কয় আমি বাঙালি, কেউ কয় আমি পাঞ্জাবি, কেউ কয় আমি সিন্ধি, কেউ কয় আমি পাঠান কিন্তু কেউ কয় না আমি পাকিস্তানী কিংবা মুসলমান। সবাই শুধু নিজের জাতিসত্ত্বার কথাটাই আগে দাবি করে। এতো কেচালের মধ্যে জিন্নাহ গেলো মইরা, রাইখা গেলো তার ট্রাংকেটেড মথ ইটেন বা পোকায় খাওয়া কীটদষ্ট পাকিস্তান। ৪৭ এর দেশভাগের আগে জিন্নাহ মুসলিম লীগের হয়ে ১৪ দফা প্রস্তাব দেয়, পরবর্তীতে কংগ্রেসের সাথে এই প্রস্তাব নিয়া কোন বনিবনা হয় নাই। ততদিনে জিন্নাহর সাথে গান্ধীজী আর নেহেরুর সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে চলে গেছে। অবশ্য এর পিছনে ব্রিটিশদেরও ইন্ধন ছিল, তারা কখনো চায় নাই হিন্দু-মুসলিম ঐক্য হোক কিংবা ভারত একটা রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকুক। জিন্নাহ ততদিনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক’কে দিয়ে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করায়। এই লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব দিকের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে মুসলমানদের জন্য আলাদা স্বাধীন ভূ-খণ্ড দাবি করে জিন্নাহ। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান নামে কোন শব্দ ছিল না। কিন্তু ১৯৪৬ সালে জিন্নাহ অনৈতিকভাবে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে মুসলমানদের জন্য পৃথক-পৃথক রাষ্ট্রের বদলে “পাকিস্তান” নামে একটা রাষ্ট্র দাবি করেন। যদিও লাহোর প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ ছিল। জিন্নাহ অনৈতিকভাবে লাহোর প্রস্তাবের STATES শব্দের S কেটে দিয়ে STATE করে বাঙালির সাথে বেইমানি করে শুরুতেই। তা না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হয় ৪৭ সালেই।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে যেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেটা ছিল ঐতিহাসিক একটা ভুল। যদি ভুল না হতো তাহলে পাকিস্তান সৃষ্টির ২৩ বছরের মাথায় নতুন আরেকটা রাষ্ট্র “বাংলাদেশ” সৃষ্টি হত না! আর এই বাংলাদেশ সৃষ্টির মূলে ছিল “৬ দফা”। ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। জিন্নাহ উত্থাপন করেছিল ১৪ দফা, তারপর লাহোর প্রস্তাব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছেন “৬ দফা”। আওয়ার রাইট টু লিভ বা আমাদের বাঁচার দাবি। ৬ দফাকে বলা হয় বাঙালির “ম্যাগনাকার্টা” বা মুক্তির সনদ। ম্যাগনাকার্টায় ব্রিটিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্য “সিভিল কোর্ট” প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়, অপরদিকে ৬ দফায় “প্যারা মিলিশিয়া” বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে বাংলার মানুষের নিরাপত্তার জন্য। জিন্নাহকে পাকিস্তানে কায়েদে আজম বা মহান নেতা নামে ডাকা হয়, পাকিস্তান জাতির জনকও বলা হয়। কিন্তু সেটা শুধু ভুল না, মহাভুল! সেটা প্রমাণ করে দিলেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “৬ দফা দাবি” পেশ করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ। জিন্নাহ লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ। আর বঙ্গবন্ধু ৬ দফা উত্থাপন করে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ, লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে। ৬ দফা উত্থাপন করা হলে পাকিস্তান সরকারের দমন-নিপীড়ন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, বঙ্গবন্ধুকে ৮ বার গ্রেপ্তার করা হয়। আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন মনু মিয়া সহ ১২ জন শহীদ হন। তাই ৭ জুনকে ৬ দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। জিন্নাহ কোনদিন চিন্তাও করতে পারে নাই, জিন্নাহর বাসভবনে বসে গোপালগঞ্জের পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের কোন এক দুরন্ত বালক তার পাক সার জমিন বরবাদ করে দিবে। আসলে পাকিস্তান আজও এক অদ্ভুত রাষ্ট্র। জিন্নাহ ছিলেন নাস্তিক, ৫ ওয়াক্ত মদ পান করতেন, শুয়োরের মাংস ছিল তার প্রিয়। কিন্তু তিনি ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানের জাতির জনক। পৃথিবীতে এর চেয়ে হাস্যকর কিছু আর হইতে পারে না। আর এ কারণেই পাকিস্তানের জাতীয় পশু “মারখোর ছাগল” হায় জিন্নাহ তোমার পাক সার জমিন আজ বরবাদ! তোমার লাহোর এখন লা-হোর(Whore).

ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন। পরিশেষে, এই দিনে পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গুলি চালায়। এতে আন্দোলনকর্মী ১২ জন শহীদ হন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন কি জন্য ঐতিহাসিক, তার প্রেক্ষপটই বা কি এ রকম অনেক প্রশ্নের জবাব আজকের প্রজন্মের জানা নেই। বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস যারা জানাবেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে জনমনে| তবু কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে জানানোর দায়িত্ব নিয়ে। তাহলে হয়তো ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের সার্থকতা আমাদের বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করবে। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার কাজে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আজকের দিনে ছয় দফা দাবি আদায়ে সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

লেখক: সদস্য সচিব, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে