টাচ নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে দেবর-ভাবীর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। স্পিকারকে পাল্টাপাল্টি চিঠি দিয়েছেন রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসতে তার ছোট ভাই জিএম কাদেরের দেওয়া চিঠির পরদিন বুধবার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন রওশন এরশাদ।

জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা করতে জাতীয় পার্টির প্যাডে পাঠানো চিঠি নিয়ে আপত্তি তুলে দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের পাঠানো চিঠিটি বুধবার বিকেলে স্পিকারের কার্যালয়ে পৌঁছে দেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ মুজিবুল হক চুন্নু।

চুন্নু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই চিঠিতে জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা করতে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর গুলশানে রওশন এরশাদের বাড়িতে এক বৈঠকে বসেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমামসহ কয়েকজন নেতা।

বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির কোনো বৈঠক ছাড়া স্পিকারকে দেওয়া জি এম কাদেরের চিঠিটির কোনো দাম নাই।

তিনি বলেন, জি এম কাদের পার্লামেন্টারি কমিটির কোনো বৈঠক না করেই লুকিয়ে এই চিঠি দিয়ে থাকলে আমি ও আমরা সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে কোনো নোটিস বা ফোন দেওয়া হয়নি। চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে শুনছি।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় রওশন এরশাদ তার নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বলে জানিয়েছে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসাতে মঙ্গলবার স্পিকার ড . শিরিন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে স্পিকারের কার্যালয়ে চিঠি পৌছে দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি।

জাপার ২৫ এমপির ১৫ জন জিএম কাদেরকে সমর্থন স্বাক্ষর করেছেন চিঠিতে। জাপার সূত্র জানিয়েছে, জাপার বাকি ১০ এমপির মধ্যে আরো দুইজনের সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের পক্ষে। বাকিরা এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের পক্ষে।

এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার এমপির সংখ্যা ২৫। নিয়ামনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা হতে ১৩ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন জিএম কাদেরের। জাপার গঠনতন্ত্রের ২২ ধারা অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান হবেন এমপি নির্বাচিত হলে পদাধিকারবলে সংসদীয় দলের প্রধান। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে এ ক্ষমতা দেওয়া হয় চেয়ারম্যানকে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অভাবনীয় ফল করে বিএনপিকে পিছনে ফেলে ২২ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় জাপা। সংরক্ষিত মহিলা আসনের চারটি ভাগে পায় দলটি। বিএনপিবিহীন দশম সংসদেও প্রধান বিরোধীদল ছিল জাপা। সেবার মন্ত্রী পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসেন রওশন এরশাদ।

একাদশ নির্বাচনের পর স্ত্রীকে সরিয়ে নিজেই বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন এরশাদ। জিএম কাদেরকে উপনেতা নিয়োগ করেন। আড়াই মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। গত ২২ মার্চ জিএম কাদেরকে সরিয়ে উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার চেয়ারম্যান হন জিএম কাদের। তাকে এ পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিবৃতি দেন রওশন এরশাদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে