মাহফুজ ফারুক: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির, পূজামণ্ডপ, আবাসস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে সন্ত্রাসী হামলার জগন্য ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি সংক্ষুব্দ, দু:খিত, লজ্জিত, হতভম্ব। কিছুটা হতাশ।

আমার শৈশবে ঈদ- পূজা পার্বনে যে আনন্দের ঢল নামত, জাত- পাত ভুলে গিয়ে সবাই মিলেমিশে এককার হয়ে খুশির বন্যায় ভেসে যেতাম- আমাদের সংস্কৃতি বিযুক্ত রাজনীতি কি তার সবকিছু কেড়ে নিল? গলাগলি করে বেড়ে উঠা বন্ধুটি যখন প্রশ্ন করে- এই বাংলাদেশ তার দেশ কিনা? তখন নিজেকে প্রশ্ন করি- এটাই কি বঙ্গবন্ধু’র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ? সব জাত- পাতের সন্মিলনে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা স্বাধীন বাংলাদেশ?

অনেকেই বিষয়টিকে সংখ্যালঘুদের সমস্যা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এটি যে জাতীয় সংকট, তা উপলব্ধি করছেন না কেউ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর এত বড় তাণ্ডব ঘটে যাওয়ার পর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে আত্মোপলব্ধি জাগ্রত হওয়ার কথা ছিল, যে প্রতিবাদী ভূমিকা তাঁদের নেওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার প্রচণ্ড ঘাটতি লক্ষ করছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

কেবল আওয়ামী লীগ, বিএনপি নয়, যাঁরাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির কথা বলেন, তাঁদের সবার উচিত দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও অপরাধীদের শাস্তি বিধানে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্রের স্বার্থেই এটা করতে হবে।

লেখক:  সদস্য, জার্মান আওয়ামীলীগ আহ্বায়ক কমিটি; প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জার্মানির।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে