ছবি: আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার

টাচ নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা জেলা, লাকসাম উপজেলার(বর্তমান লালমাই উপজেলা) কৃতিসন্তান, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃতুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন তপন।

গত ২৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৮ টা ১৮ মিনিটে তিনি রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রবীণ এই আইনজীবী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি-সম্পাদক ছিলেন।

শোকবার্তায় শাহতাদ হোসেন তপন বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধায় প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনৈতিক আবদুল বাসেত মজুমদারের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।চলে গেলেন আইনাঙ্গনের নক্ষত্র, শোকাহত সারাদেশের আইনাঙ্গন। স্যারের সম্মানে বসছে না আজ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগ।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে হার্ট অ্যাটাক করায় ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছিলো।

 বাদ জোহর সুপ্রীম কোর্ট মরহুমের জানাযার নামাজের পর লাকসামের গ্রামের বাড়িতে  পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

এর আগে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর গত ৬ অক্টোবর বাসায় যান। সর্বশেষ উনার পেছনের মেরুদণ্ডের হাঁড়ের একটা ডিস্ক ডিসপ্লেসমেন্ট হয়ে যায়। প্রায় দুই-আড়াই মাস থেকে উনি খুবই অসুস্থ ছিলেন।

তারপর সর্বশেষ ১০-১২ দিন ধরে উনার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল।

‘গরিবের আইনজীবী’ হিসেবে খ্যাত আবদুল বাসেত মজুমদার আইন পেশায় ৫৬ বছর পার করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক।

তিনি ১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম (বর্তমানে লালমাই) উপজেলার শানিচো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আব্দুল আজিজ মজুমদার, মা জোলেখা বিবি। স্থানীয় হরিচর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) ও বিএ পাস করেন তিনি। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬৬ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর বড় ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন আবদুল কাদের ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ রাজা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। দুই মেয়ের মধ্যে ফাতেমা আক্তার লুনা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। সর্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিউজিকে পড়াশোনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার ঝুমা উত্তরা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে