পাথরঘাটা প্রতিনিধি: নানীর দেয়া টাকা দিয়ে ঈদে পোষাক না কিনে সেই টাকা দিয়ে বাজার করে দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দিলেন ঈদে নাস্তা করার জন্য বাজার। ঈদএলে কম বয়সের ছেলে- মেয়েরা পছন্দের পোশাক কেনার জন্য বাবার কাছে, মায়ের কাছে  কি কাকতি-মিনতিই না করে। বাবা-মা সন্তানের সে আবদার পূরণও করেন  তাঁর সাধ্য অনুযাই। তবে দুই ভাই-বোন সুচি আর শায়েদ এর সম্পূর্ন ব্যতিক্রম। নিজেরা পোশাক না কিনে দিনমজুর, রিকশা চালকসহ হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে পাথরঘাটায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। 

নানী বুলবুল বেগমের দেওয়া ২০ হাজার টাকা দিয়ে দুই ভাই-বোন নিজেরা পছন্দসই ঈদে পোশাক না কিনে একটি দেশী মুরগী, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি চিনিগুড়া চাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, ২ প্যাকেট সেমাই ও একটি ট্যাংক কিনে দিয়েছে ২০জন হতদরিদ্রদের হাতে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা উকিল পট্টিতর ল চেম্বারে এসকল বিতরণ করা হয়।  

পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাবির হোসেন ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী পাথরঘাটা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার রনির ছেলে ও মেয়ে। সাজনাইন মারিয়াম সুচি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র তুশাইব শায়েদ।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে তারপর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি। এ অব¯’ায় উপকূলের মানুষের জীবন যাত্রা ¯’বির হয়ে পড়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বুলবুল বেগম প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর অন্যান্য নাতি-নাতনীদের মতো ঈদের পোষাক কেনার জন্য সুচি ও শায়েদকেও ২০ হাজার টাকা দেন। দুই ভাই ও বোন সিদ্ধান্ত নেন এ বছর নিজেরা পোষাক না কিনে হতদরিদ্রদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ বিলিয়ে দেবেনে সুচি ও শায়েদ।

দুই ভাই ও বোন পোষাক না কিনে এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সাজনাইন মারিয়াম সুচির সঙ্গে কথা হয়। সে বলে, আমি পরিবার থেকেই শিখে আসছি। আমার নানা জীবিত থাকাকালীন পাথরঘাটায় অনেক মানুষকে ঈদসহ সবসময় সহযোগিতা করে এসেছেন। আজ আমার নানা বেঁচে নেই। নানী আমার ও আমার ভাইকে ২০ হাজার টাকা দেন ঈদের পোশাক কেনার জন্য। আমরা এ টাকা দিয়ে নিজেদের পোশাক না কিনে দরিদ্রদের মাঝে ঈদের নাস্তা কিনে দিয়েছি। আমরা নানা এবং বাবার ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। 

আলাপকালে অ্যাডভোকেট জাবির হোসেনের বলেন, আমি গর্বিত। ওর নানির দেওয়া টাকার সঙ্গে আমরা কিছু যোগ করেছি। এ বয়সে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমি সত্যিই গর্বিত। 

রিকশা চালক মো. সহিদ বলেন, এতো ছোট শিশুদের কাছ থেকে আজ আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ছোট হলেও অনেক বড় মনের মানুষ ওরা। আমি একজন রিকশা চালক হওয়ায় ছোট ছেলে  মেয়েরা নিজেরা পোশাক না কিনে আমাকে ঈদের নাস্তা দিলেন।অল্লাহ্ ওদের ভাল রুখুক শান্তিতে রাখুক এই দোয়া করি।##

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে