ঈদের কষাই
কামরুল হাসান সোহাগ

মহাজন হাকিয়া কহে
‘জীবনে পশু জবাই দেখিস নি বাবা,
নস্ট করিলি ঈয়াতীমের হক চামড়াটা,
কাটে না গোস্ত ফাটে তেতুলের খাটা।
গরুর দামের হিসাবে করেছিস বায়নাটা
খাস চাটিখানা হয়নাকো বাঁধা।’
টুটি চেপে বড় পোল কহে ‘ কি করিস ব্যাটা’
হাড্ডী কংকালসার ত্রি আদম পড়িল ধরা
অস্ফুট অভুক্ত ভগ্ন চাপা কন্ঠস্বর
মৃদু কন্ঠে কহে ‘আমি বাবা মাছওয়ালা’
‘আমি তরকারীওয়ালা বাবা’
‘আমি বাবা রিকশাওয়ালা’
‘দু পয়শা বাড়তি আয়ের টানে
আজ সেজে এসেছি তোর গৃহে কসাই বাবা।
হাচা কহি জীবনে করি নি এ কাজ
আজ ঈদের দিনে খুশিমনে তুই দিস যদি বাপ
অভাবীর দোয়ায় হবে গুনাহ গাতাহ মাফ’
বুভুক্ষ গোশতপ্রার্থী সারি সারি জনতা
কর্ম শেষ না হতে জ্বলে কর্তার চুলা।
শরিয়ত সম্মত কর্তার আগে খাওয়া
স্থুলকায় অর্ধ শিক্ষিত বড় পোলার ফতোয়া
কর্তার ফ্রিজ করে গিজ গিজ
এসেছিস পরে নেই কোন পিস
যতই হোক ব্যত্যয় গাঁথুনিতে উপমায়
সে ব্যত্যয়ের দায় ক্ষুন্নিবৃত্তির তাড়নায়
মসজিদে সুরেলা আযান শ্বাসত বয়ান
পবিত্র ঈদ উল আযহার শিক্ষা সুমহান
ধনের কুরবান, জানের কুরবান।
অহমের কুরবান, অবসান অ ন্যায্যের
আত্মত্যাগের মহীমায় চির ভাস্বর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে