টাচ নিউজ ডেস্কঃ ঢাকা মহানগরী, সাভার-আশুলিয়া, টঙ্গী-গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১২৫টি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা করে বাণিজ্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা। যেখানে বলা হয়েছে, ওই ফ্যাক্টরিগুলোর চলতি বছরের মার্চের বেতন-ভাতা ঈদের আগে পরিশোধের সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপ্রীতিকর ঘটনার আগেই প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

শ্রম অসন্তোষের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা সত্য বলে মন্তব্য করেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মো. হাতেম। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, কিছু কিছু কারখানায় সংকট আছে। তবে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতেই হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ নিয়ে হলেও শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান নিট গার্মেন্ট কারখানা মালিকপক্ষের এই নেতা।

গার্মেন্ট কারখানাগুলোর সংকট সম্পর্কে মো. হাতেম বলেন, গত দুই মাস ধরে ফ্যাক্টরিগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। এর ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে গেছে। বিকেএমইএর এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, করোনা মহামারীর কারণে সরকার ঘোষিত যে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ তিন মাস পরপর তারা পান, সেটিও এবার পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। সংকট এড়াতে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি লিখলেও অর্থসচিব বিদেশে থাকায় ঈদের আগে ওই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি জানান।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ ব্যাংকের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াসহ পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প পণ্য রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অনেক মালিক রাশিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেনে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় অর্ডার অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করেও তা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গার্মেন্ট ফেব্রিক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি আমদানি সংকটের কারণেও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও বাতিল হয়েছে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি এবং সাবকন্ট্রাক্টে কাজ করা গার্মেন্টগুলোর উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় কিছু কিছু গার্মেন্ট মালিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময় মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শ্রম অসন্তোষ এড়াতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও যেসব সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো- গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রতি মাসের বেতন-ভাতা ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা; রাশিয়া ও ইউক্রেন অঞ্চলের বাইরে নতুন বাজার অনুসন্ধান করা; ছোট ও সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করা ফ্যাক্টরিগুলো চিহ্নিত করে তাদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া; বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বিদেশি অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা; বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য লবিং জোরদার করা; শ্রমিক বিক্ষোভ ও অসন্তোষ বন্ধে হঠাৎ শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ না করে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে শ্রমিকরা যেন বেতন-ভাতা সঠিকভাবে সময় মতো পায় সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে