টাচ নিউজ ডেস্কঃ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। গত সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির রাজধানী কুইটোতে ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটে। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

কুইটোর মেয়র সান্টিয়াগো গুয়ারদেরাস জানিয়েছেন, ভূমিধসের ঘটনায় মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পর্যন্ত প্রাণ হারানোদের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫১ জন। এতে বেশ কয়েকজন নিখোঁজও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রবল বৃষ্টিপাতের পর গেল সোমবার দিবাগত রাতে ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সে সময় কাদা-মাটি ও পাথরে সেখানকার বাড়ি-ঘর ও পথঘাট ঢেকে যায়। এতে সেখানকার বিদ্যুৎ সেবাও ব্যহত হয়। ফলে অনেকে নিজেদের বাড়ি-ঘরেতে আটকা পড়েন। আর এতেই অঞ্চলটিতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

ভূমিধসের একদিন পর মঙ্গলবারও শহরের বহু বাড়ি-ঘর ও রাস্তা কাদার নিচে ছিল এবং আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রতিবেদক।

আরও পড়ুন : নোবেল শান্তি পুরস্কারে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ

মেয়র সান্টিয়াগো গুয়ারদেরাস মঙ্গলবার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু লোক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়।

গত সোমবার দিবাগত রাতে ভূমিধসের ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নয়জন নিখোঁজ এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে খবরে জানানো হয়েছিল। যদিও মঙ্গলবার সময় গড়াতেই হতাহত ও নিখোঁজদের সংখ্যা ক্রমে বাড়তে থাকে। আর নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানান কুইটোর বাসিন্দা আলবা কোটাকাচি।

অবশ্য কুইটোতে আরও ভূমিধস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আপাতত নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া কাদায় পরিপূর্ণ রাস্তা পরিষ্কারের কাজও চলছে।

আরও পড়ুন : মার্কিন নাগরিকের মুক্তি চেয়ে তালেবানকে বাইডেনের বার্তা

উল্লেখ্য, ইকুয়েডরের বিভিন্ন জায়গায় বর্তমানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে করে সেসব এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে এবং শত শত বাড়ি-ঘর ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে