টাচ নিউজ ডেস্কঃ ইউক্রেন ইস্যুতে গোটা ইউরোপে বিদ্যমান উত্তেজনা এখন চরম অবস্থাতে রয়েছে। এর একদিকে আছে রাশিয়া, যারা ইউক্রেনের সীমান্তে প্রায় লাখখানেক সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে বলে দাবি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ন্যাটো জোটও অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। ইউক্রেনে কোনো সামরিক অভিযান চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম ইউরোপ আবার একটি বড় আকারের যুদ্ধের মুখোমুখি- এমন আশঙ্কা করছেন অনেকে। এরই মধ্যে ইউক্রেনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উস্কানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে দাবি রুশ মিডিয়া ইন্টার ফ্যাক্সের।

ওয়েস্টার্ন এভিয়েশন রিসোর্সেস মনিটরিং সেন্টারের বরাতে রাশিয়ান সংবাদ মাধ্যমটি বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও লন্ডন ইউক্রেনকে সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের অজুহাতে দেশটিতে ১৫টি ফ্লাইট পাঠিয়েছে। খবরটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন রুশ মিডিয়াগুলো এর আগে ইউক্রেনের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা সমরাস্ত্রকে ‘পুরনো ও সেকেলে’ বলে দাবি করেছিল।

ইউক্রেনের পার্লামেন্ট সদস্য ভ্যালেরি সম্প্রতি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশে পুরনো অস্ত্র পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে পরিবহন বিমানে করে ২৫০ টন সমরাস্ত্র পাঠিয়েছে। এসব অস্ত্রের অধিকাংশ কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার ট্যাংকের বহর ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করলে সেগুলোকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে এই অস্ত্র দিয়েছে।

ইন্টার ফ্যাক্স আরও জানায়, যুক্তরাজ্যও ইউক্রেনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করছে। গেল দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকটি পরিবহন বিমানে করে কিয়েভকে সমরাস্ত্রে সয়লাব করে দিয়েছে ব্রিটেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালাতে চায় মস্কো এবং এজন্য ইউক্রেন সীমান্ত প্রায় এক লাখ সৈন্য মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

যদিও মস্কো শুরু থেকেই কঠোর ভাষায় অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। রাশিয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলছে, ইউক্রেনে আক্রমণের অজুহাত তুলে দেশটিতে সমরাস্ত্রের ঢল নামিয়েছে পাশ্চাত্য। ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে