টাচ নিউজ ডেস্কঃ ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানার ছিদ্র দিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। টানা দুই ঘণ্টা ধরে কটুগন্ধযুক্ত বর্ণহীন এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য রাসায়নিক কারখানার ওই ছিদ্র বন্ধ করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রাসায়নিক কারখানা থেকে গ্যাস লিকেজের জন্য রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে ইউক্রেন। সোমবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এর আগে গ্যাস ছড়াতে শুরু করার পর ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নভস্লিটসিয়ার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির ওই এলাকায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনের তুমুল লড়াই চলছে।

এদিকে সুমির আঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্র ঝিভিতস্কি অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণের কারণে রাসায়নিক প্লান্ট থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে অ্যামোনিয়া ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থল পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থানরতদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঝিভিতস্কি জানান, দুই ঘণ্টা পর রাসায়নিক কারখানার ছিদ্র আটকাতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। টেলিগ্রামে তিনি জানান, ‘জরুরি বিভাগের কর্মীরা অ্যামোনিয়া গ্যাসের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করছেন। মানুষের জন্য এখন কোনো হুমকি নেই।

এর আগে দিমিত্র ঝিভিতস্কি জানিয়েছিলেন, সুমিখিমপ্রম সার কারখানার ছিদ্র থেকে অ্যামোনিয়া নির্গত হয়ে এটি আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে বাসিন্দাদের ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নিচু কোনো জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়।

এক টেলিগ্রাম বার্তায় তিনি বলেছিলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা। তাই নিরাপত্তার জন্য সকলের বেজমেন্ট অথবা নিচু ফ্লোরে আশ্রয় নেওয়া উচিত।

সংবাদমাধ্যম বলছে, রাজধানী কিয়েভ থেকে ২২০ মাইল পূর্বে সুমি শহরের কাছে অবস্থিত এই কারখানায় রাসায়নিক সার উৎপন্ন হয়ে থাকে। রুশ সামরিক অভিযান শুরুর আগে এই শহরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করতেন। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে তুমুল লড়াই চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে