টাচ নিউজ ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবারও শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আমিরাতি কর্তৃপক্ষ বলছে, বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরের দিকে দেশটির জনবসতিহীন একটি এলাকার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া তিনটি ড্রোন সফলতার সঙ্গে প্রতিহত করা গেছে। গেল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক এবং পর্যটন কেন্দ্র দেশটিতে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো আক্রমণের ঘটনা ঘটল।

গত সোমবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফরের দিনসহ আরও অন্তত তিনবার আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। এই তিনবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। গত ১৭ জানুয়ারি বিদ্রোহী বাহিনীটির হামলায় দেশটিতে বসবাসরত দুই ভারতীয় এবং এক পাকিস্তানির প্রাণহানি ঘটে।

আমিরাতে নতুন করে আক্রমণ চালানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি হুথি বিদ্রোহীরা। যদিও সর্বশেষ বুধবার ভোরের দিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে প্রায় অপরিচিত একটি গোষ্ঠী। ‘ট্রু প্রোমিজ ব্রিগেড’ নামে এই গোষ্ঠী আমিরাতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে জানানো হয়।

এর আগে গত বছরের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরবে একবার ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছিল ট্রু প্রোমিজ ব্রিগেড। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা যে কোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। বাণিজ্যিক নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে আমিরাতের যে সুনাম রয়েছে তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে আমিরাতে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত এবং মার্কিন সৈন্যদের একটি ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর উপসাগরীয় এই দেশটিতে যুদ্ধবিমান ও রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ঘোষণাটি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

টেলিফোনে আলাপকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের নৌবাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন আবু ধাবির বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী রণতরী ইউএসএস কোল পাঠাবে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বর্তমান হুমকি মোকাবিলায় আমিরাতকে সহায়তার অংশ হিসাবে দেশটিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্তও আবু ধাবির প্রিন্সকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এর মাধ্যমে পরিষ্কার সতর্ক বার্তা দিতে চায় যে, দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে