ইকবাল আহমেদ লিটন: মানুষের সার্বিক মুক্তি তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থা উন্নত করার সংগ্রাম যাতে করে সংগঠিত হতে না পারে এজন্য একদল স্বার্থবাদী মহল সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই সাথে রাজনৈতিকতার নামে অরাজনৈতিক লোকেরা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যাদের আমি বলি ধরিবাজ। রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নষ্টদের নষ্টামিতে পরিণত করার ধারায় এগিয়ে নিতে ধরিবাজরা বদ্ধপরিকর। নীতিহীনদের এই নীতিহীন রাজনৈতিক পরিবেশ মানুষকে অপরাধ জগতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। টেন্ডারবাজী, মাদক, জুয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নির্যাতন, খুন, অপচিকিৎসা সহ ধর্ষণের মত সামাজিক অপরাধ ও বেকারত্ব মহামারী আকার ধারণ করেছে আওয়ামী লীগের মুখোশ পরে কিছু দুর্নীতিবাজ কারণে তাদের মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলা। দুর্নীতি যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে করে লুটপাটের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা এই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রধান কারণ। ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত রাজনীতি বিমুখ হচ্ছে। তাছাড়া মুখোশধারী, নীতিচ্যূত, দলবদলানো ও ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিরা নীতিকথা এবং ঐক্যের কথা বলে ধারাবাহিক ভাবে আদর্শিকধারা এগিয়ে নিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এটা বুঝতে হবে যে আদর্শের সঙ্গে অনাদর্শের নীতিগত ঐক্য হয় না।

যে মুখের দিকে তাকালে দেখা যাই সমগ্র বাংলাদেশকে। দেখা যাই বাংলাদেশের জন্মদাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেখা যাই পরম ভালবাসা ও আমরণ শ্রদ্ধার পাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে। আশা উদ্দীপনা ও কর্মচঞ্চলতা খুঁজে পাই লক্ষ কোটি প্রকৃত মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা যারা কখনো আলোচনায় আসেনা কোন মিডিয়াতে। তারা শুধু অন্ধভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে সাপোর্ট করে আর নেত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে শত হারানোর যন্ত্রনা ভুলে সুখ খুঁজে আর বলে আমরা শুধু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চিনি। শহর থেকে তৃনমুলের এই আবেগকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ রাজনীতি করে। তারা ভুলেও ভাবেনা বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জন ছাড়া তাদের নিজস্ব অর্জন কতটুকু?

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সকল অর্জন প্রশ্নের সম্মুখীন করতে ওরা একতাবদ্ধ। ওরা হায়েনা, ওরা পিচাশ, ওরা রক্তচোষা রাক্ষস জাতি। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের করেছে সর্বহারা। ৭৫ এর ১৫’ই আগস্ট ওরা আমাদের করেছে অবিভাবক হারা। এখনও ওরা থেমে নেই। ওরা সরব। আর আমরা আজও নিরব। দেশ ও জাতিকে জবরদস্তি করে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার জন্য ঐসকল নরপিশাচরা প্রস্তুত। তাই আমাদের আরও বেশী চোঁখ কান খোলা রেখে চলতে হবে যাতে করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিকে ওরা ধ্বংস করতে না পারে।

সে যাইহোক, পরিতাপের বিষয় আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে নীতিচ্যুত হচ্ছেন। এসব নেতাদের ক্ষমতার মোহ, ব্যক্তিগত সুবিধা প্রাপ্তি এবং আপোষকামী মনোভাব সাধারণ মানুষকে আশাহত করেছে।অন্যদিকে রাজনৈতিক এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক শক্তি ও ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে। এ সব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা উপজেলা এমনকি গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত লাভ করছে। ব্যর্থ ও স্বার্থান্বেষী নেতৃত্বের প্রতি মানুষের কোন আগ্রহ নেই। মানুষ তার জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারে কেবল আদর্শবাদী রাজনীতিই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে পারে। মানুষ মুক্তি চাই শামীম, পাপিয়া, সাবরিনা, সাহেব গংদের থেকে। মানুষ আলোর দিশা পেতে চাই।

যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিকে বিশ্বাস করেনা, দেশকে ভালোবাসেনা, দেশের মানুষকে ভালোবাসেনা, নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য রাজনীতি করে, প্রচুর অর্থের মালিক হওয়ার জন্য রাজনীতি করে, ক্ষমতা দেখানোর জন্য রাজনীতি করে, তারা প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। খারাপ লাগার কিছু নেই, পরিস্থিতি এখন প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের নাগালের বাহিরে। সময় এখন নব্য অনুপ্রবেশকারীদের। আওয়ামী লীগের কর্মীদের তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কারণ আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রী ও বড় বড় নেতাকর্মীরা নব্য অনুপ্রবেশকারী বিএনপি জামায়াত শিবিরের মায়াজালে বন্দী। যতদিন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড পরিশুদ্ধ না হচ্ছে ততদিন কর্মীদের চোখের জলের ভাষা অব্যক্তই রয়ে যাবে।

পরিশেষেঃ বাংলার জনতা নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত, লক্ষ্যহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বদান- কারীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। এসব বিষয়ে সদা সতর্ক থেকে রাষ্ট্র ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিজ্ঞান নির্ভর, সৃষ্টিশীল ও যুক্তিপূর্ণ কর্মসূচী প্রনয়নে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত সৎ, যোগ্য নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিতে হবে তবেই বাংলাদেশের মানুষ সুখ ও শান্তিতে থাকবে সর্বপরি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জয় হবে -ইনশাআল্লাহ।

লেখক: ইকবাল আহমেদ লিটন, সদস্য সচিব, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ (আহবায়ক কমিটি)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে